জন্মদিনে মজার উপহার

জন্মদিনে মজার উপহার

গতকাল ১৩/১০/২০২০ ছিল আমার জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমার ফেসবুক বন্ধু, নিকটজন/আত্নীয় বিশেষকরে আমার অফিস কলিগগন আমাকে বিভিন্নভাবে উইশ করেছেন। কেউ কেউ ফোন দিয়েছেন। অনেকে মেসেন্জার হোয়াটসআপ, ইমুতে শুভেচ্ছা মেসেজ দিয়েছেন।

বিশেষত আমি যে প্রতিষ্ঠানে জব করি সে প্রতিষ্ঠানের সিইও স্যার অনেক বড় সেলিব্রেটি, লেখক, অনেক সুনাম, অনেক দক্ষ ও সফল এক ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রথমেই আমাদের কম্পানীর হোয়াটসআপ গ্রুপে আমাকে শুভেচ্ছা জানানোর সাথে সাথে সকল সহকর্মীগন সরাসরি, পারসোনালি ও গ্রুপে শুভেচ্ছার পর শুভেচ্ছা জানাতে লাগলেন।

সারাদিন কর্মব্যস্ত থাকার কারনে সকলকে শুভেচ্ছার প্রতি উত্তরও দিতে পারি নাই। যাদের শুভেচ্ছার জবাব দিতে পারি নাই তাদের নিকট আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সাথে সাথে যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

কিন্তু এত শুভেচ্ছা এত ভালোবাসার ভিতর অবাক করা একটি মজার ঘটনা ঘটেছে যা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিষয়টিকে গত কাল আমি গুরুত্ব দিই নাই আমলে নিই নাই। কিন্ত আজ কেন জানি ঘটনাটি আমার বার বার মনে পড়ছে। যার ফলে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা রাখি আপনারও মজা পাবেন।

গতকাল দিনটা আমার খুবই ব্যস্ততায় গেছে। প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যক্তির একোমডিশনের জন্য কিছু কেনা কাটা ছিল। এডমিনের সাথে কেনাকাটা শেষ করে প্রজেক্টে প্রজেক্টে পৌছে দিচ্ছিলাম। একটানা অনেকক্ষন গাড়ীতে থাকার কারনে বমি বমি ভাব লাগছিল। আমি আবার বেশিক্ষন গাড়ীতে চড়তে পারি না। যাইহোক এক প্রজেক্টে পৌছানোর আগে যে ব্যক্তিকে একোমোডেট করা হচ্ছে তাকে ফোন দিয়ে বললাম আপনার কিউরিং ম্যানকে নিয়ে প্রজেক্টের গেটের দিকে একটু এগিয়ে আসেন আপনার আবাসনের কিছু পন্য আনা হয়েছে একটু রিসিভ করেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জবাব এল আমি প্রজেক্টে নেই কিউরিং ম্যানকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

সারাদিনের ক্লান্তি ও বমি বমি ভাবের জন্য প্রজেক্টে পৌছিয়ে সিকিউরিটি পোষ্টের চেয়ারে ফ্যানের নিচেয় গা এলিয়ে দিয়ে মাথা টেবিলে রেখে বসে পড়লাম। কিছুক্ষন পরে কিউরিং ম্যান হন্ত দন্ত হয়ে ছুটে আসলে সাথের সহকর্মী এডমিনের ভাই কিউরিং ম্যানকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন আর তোমার চোখ লাল কেন, চোখে জল কেন তুমি কি কাঁদতেছে?

শফিক স্যার মারা গেছে শুনে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি তাই কাঁদছি স্যার। কিউরিং ম্যানের জবাব।

এডমিনের ভাই অবাক হয়ে জানতে চাইলেন কোন শফিক স্যার?

কেনো স্যার আপনি জানেন না হেড অফিসের শফিক স্যার। ঐ যে ইনভেন্টরী অফিসারদের বস।

টেবিল থেকে মাথা উঠিয়ে কিউরিং ম্যানের দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলাম। এডমিনের ভাই আরও একটু মজা করার জন্য বললেন, তা শফিক স্যার মারা গেছে শুনে আপনার এত কষ্ট লাগার কারন কি? জবাবে কাঁদতে কাঁদতে কিউরিং ম্যান বলল, আমি যখন সেরেনডিপিটি প্রজেক্টে ডিউটি করতাম তখন শফিক স্যার সেরেনাইড প্রজেক্টে ছিলেন। উনি অনেক ভালো মানুষ ছিলেন আমাকে অনেক ভালো বাসতেন। আমাকে টাকা ধার দিয়ে হেল্প করতেন ইত্যাদি অনেক কথা। এডমিনের ভাই বললেন শফিক স্যার মারা গেছেন তাহলে ইনি কে? কিউরিং ম্যান যেন আর কান্নার বাধ ধরে রাখতে পারলেন না। কাঁদাতে কাঁদতে বললেন সত্যিই স্যার আমি যা শুনেছি তাই বলেছি একটুও মিথ্যা বলিনি। আমি হতবাক হয়ে কিউরিং ম্যানের চোখের জলের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম কেউ হয়ত আমার সম্পর্কে তাকে ভুল ইনফরমেশন দিয়েছে। কিন্তু তার পরেও একথা ভেবে ভাল লাগল যে অন্তত কিউরিং ম্যান হলেও আমি মারা গেলে সত্যি সত্যিই আমর জন্য কেই কাঁদবে। এটাই হয়ত এবারের জন্মদিনের বড় উপহার আমার জন্য।

ঘটনার আকস্মীকতা কেটে গেলে কিউরিং ম্যানকে জিনিস গুলো বুঝিয়ে দিয়ে আমরা গাড়ী নিয়ে অফিসের পথে পা বাড়ালাম।

ম.ম.শ ইসলাম প্রিয়

এই লেখাটি ’প্রতিচ্ছবি’র সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক কোনরূপ সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত। লেখাটির সর্ব-স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। লেখকের অনুমতি ব্যতীত এবং লেখকের নাম ছাড়া অন্য মিডিয়াতে লেখাটি প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে।

Add comment

Most popular

Most discussed