দিনটি যেন শুধুমাত্র আনন্দ প্রকাশ ও শোভাযাত্রার উপলক্ষ্য হিসাবে পরিনত না হয়।

যাকে সৃষ্টি করা না হলে শুধু মানব সৃষ্টিই নয়, কুল মাখলুকের কিছুই কিছুই সৃষ্টি করা হত না সেই মহান স্বত্তা মহামানব ইসলাম ধর্ম এর প্রবর্তক, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ সঃ এর জন্মদিন বা ঈদে মিলাদুন্নবী ১২ ই রবিউল আওয়াল এ পালন করা হয়। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত রহমাতাল্লিল আলামিন এর জন্মদিন সকলের জন্য খুশির ও আনন্দের। এই দিনে বিশ্বের সকল মুমিন মুসলমান খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকে ধারনা করে থাকেন রাসূল সঃ এর জন্মদিনে আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করে অনুষ্ঠান করা বেদাত, কারন রাসূল সঃ তার জীবদ্দশায় এটা করেননি বা করার নির্দেশ দেননি। এমন কথা যারা বলেন বলেন আবার তারাই দেখা যায় নিজের সন্তানের জন্মদিনে কেক কেটে উৎযাপন করছেন। যদি আমাদের মত সাধারণ মানুষের সন্তানলাভ বা জন্মদিন আমাদের নিকট এত আনন্দের ও খুশির হয়ে থাকে তাহলে বিশ্ব মানতার মুক্তির দিশারী রহমাতুল্লিল আলামিন যাকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ্ সুবহানাহূওয়াতায়ালা আকাশ পৃথিবী বাতাস চন্দ্র সূর্য কিছুই সৃষ্টি করতেন না তার জন্মদিনে খুশি হওয়া বা আনন্দ প্রকাশ করা উম্মতের জন্য অযৌক্তিক কিভাবে হতে পারে। অবশ্য বিরুদ্ধবাদীগণ এ কথাও বলে থাকে মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ্ তায়ালা কিছুই সৃষ্টি করতেন না একথা নাকি ঠিক নয়।

বোখারী শরিফের এক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, একদা জিব্রাঈল আঃ রাসূল সঃ কে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাকে অবগত কারার জন্য আমাকে প্রেরণ করেছেন। হযরত ইব্রাহিম আঃ আল্লাহকে বন্ধুরূপে পেয়েছিলেন আর স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালা আপনাকে বন্ধুরূপে নিয়েছেন আর আল্লাহর অন্তরে আপনাকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা যদি না জাগত তাহলে আল্লাহ্ কিছুই সৃষ্টি করতেন না। আশা রাখি বিরুদ্ধবাদীগণ এই হাদিসটি পাঠ করার পরে আর বলবেন না মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ্ তায়ালা কিছুই সৃষ্টি করতেন না একথা নাকি ঠিক নয়।

এখন প্রশ্ন হল মহান ঈদ, ঈদে আযম তথা মহানবীর জন্মদিনে কি শুধুমাত্র আমরা শোভাযাত্রা ও মনের উচ্ছাস এবং আনন্দ প্রকাশ করে হৈহুল্লোড় করব নাকি এসব বর্জন করে দোয়ার মাহফিল, আলোচনাসভা ও দান সদকা করব? প্রশ্নটি খুবিই সংগত ও আলোচনা সাপেক্ষ এবং বিতর্কপূর্ণও বটে।

প্রকৃতপক্ষে ইসলামে সবকিছুরই একটি সীমারেখা একে দিয়েছে। কোন কিছুতেই অতিরিক্ত কিছু করা উচিৎ নয়। খুশি প্রকাশের একটি ইসলামি নীতি আছে। যেমন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সুরা আল ইমরানের ১৭১ নং আয়াতে বলেন-

আল্লাহর নেয়ামত অনুগ্রহের জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এভাবে যে, আল্লাহ, ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।

অর্থাৎ আনন্দ এমনভাবে প্রকাশ কর যেন আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে অবশেষে তা নিরানন্দের কারন না হয়ে দাড়ায়। অতএব আমাদের উচিৎ আল্লাহর নিয়ামতের শোকর গোজার করা এবং সে নেয়ামতের ফল যাহাতে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা।

যেহেতু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা ক্বোরআন পকে ঘোষনা করেছেন মুহম্মদ সঃ আমাদের জন্য উত্তম অনুসরনীয় ও অনুকরনীয় ব্যক্তিত্ব (যারা আল্লাহ শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।) তাই আমাদের উচিৎ তাহার এই পুত-পবিত্রতম জন্মদিনে তার জীবনি তার কর্ম কর্মপন্থা তার সংগ্রামী জীবন ইত্যকার বিষয় সমূহ আলোচনার ও নিজের বাস্তব জীবনে বস্তবায়নের চেষ্টার শফত নেওয়া ও দান সদকার মাধ্যমে এই দিনটি উৎযাপন করা। এই দিনটি হওয়া উচিৎ নিজের জীবনকে আত্নউৎর্গ করার শফত নেওয়ার উপলক্ষ্যে পরিনত করা তাই এই দিনটাকে যেন আমরা শুধুমাত্র আনন্দ প্রকাশ ও শোভাযাত্রার উপলক্ষ্য হিসাবে পরিনত না করি এই আমাদের দৃড় প্রতয়।

০ Comments

Leave a reply

কপিরাইট © 2020-2021 প্রতিচ্ছবি কর্তৃক সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত।

যোগাযোগ করুন

আমরা এখনই কাছাকাছি নেই। তবে আপনি আমাদের একটি ইমেল প্রেরণ করতে পারেন এবং আমরা আপনার কাছে আবার আসব।

Sending

Log in with your credentials

or    

Forgot your details?

Create Account